নারী ও শিশুর নিরাপত্তা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি
- আপডেট সময় ১২:৫০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা: উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ও করণীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং হত্যার মতো অপরাধের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও প্রতিবাদ
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমানে ঘরে-বাইরে কোথাও নারী ও শিশু নিরাপদ নয়। সংগঠনটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সরকারি উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জসমূহ
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) পরিদর্শনকালে বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ওসিসিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।”
তবে, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনের প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন যথেষ্ট নয়; নারীর নিরাপত্তার জন্য সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অপরিহার্য। পাশাপাশি, ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদানে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রশাসন, সমাজ এবং পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।