১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫
সংবাদ শিরোনাম ::
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত নারীর অংশগ্রহণ, ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য নিরসন বিষয়ে এবি পার্টির সুপারিশ
নিজস্ব সংবাদ :
- আপডেট সময় ১২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করুন- এবি পার্টি
আজ, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির পক্ষ থেকে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত নারীর অংশগ্রহণ, ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য নিরসন বিষয়ক সুপারিশ মালার মূল দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এবি পার্টি জোর দিয়ে জানায় যে, নারীর সমাজে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, তাদের ক্ষমতায়ন করা এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নির্মূল করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন,
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, এবি পার্টি দেশ ও সমাজের বাস্তব চাহিদা ও মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায় এমন সুপারিশ পেশ করেছে। “নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে একটি সাম্য ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আমাদের সুপারিশ গুলোতে জনগণের প্রত্যাশা ও দেশের বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নে মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হবে।”
এবি পার্টির নারী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ সাত্তার বলেন,
“আমরা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত নারীর অংশগ্রহণ, ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য নিরসন বিষয়ে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছি, যা আমাদের সমাজে নারীদের সুরক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য। এসব সুপারিশ দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করবে”।
বাংলাদেশে নারীদের ওপর গত কয়েক দশকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে – জন্মনিয়ন্ত্রণ, পরিবার পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী নির্যাতন বিরোধী আইন এবং বাল্যবিবাহ-যৌতুক বিরোধী পদক্ষেপ সমুহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । তবে, গণমানুষের প্রত্যাশা এবং দেশের স্বকীয় কালচারের প্রতিফলন ঘটাতে প্রয়োজন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।
এবি পার্টি নারী ক্ষমতায়ন, উন্নয়ন ও সুরক্ষার লক্ষ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ সংস্কার কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেছে, যার মুল অংশ সমুহ নীচে তুলে ধরা হলো:
১. নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা
সড়ক ও পরিবহন নিরাপত্তা:
শহর ও গ্রামাঞ্চলে সিসিটিভি মনিটরিং, স্মার্ট স্ট্রিট লাইট এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্টে জিপিএস ট্র্যাকিং চালু করা।
রাতের বেলা নিরাপদে বাড়ি ফেরার জন্য ‘নাইট বাস’ ও নির্ধারিত ‘সেফ স্টপ’ ব্যবস্থা।
গণপরিবহনে বিশেষ নারী সিট, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা।
কমিউনিটি এবং অনলাইন সুরক্ষা:
স্থানীয় কমিউনিটি ওয়াচডগ গঠন, যেখানে জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও শিক্ষাগত প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
অনলাইনে নারীদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, যাতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার সম্ভব হয়।
কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা:
জাতীয় লিঙ্গ সমতা ফ্রেমওয়ার্ক নির্ধারণ ও রেজিস্টার্ড প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, মায়েদের জন্য বিশেষ কর্ণার, পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি ২০২৭ থেকে ১ বছরের করে বৃদ্ধি করা।
২. মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা
মানসম্মত টয়লেট সুবিধা:
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর টয়লেট বাধ্যতামূলক করা, বিশেষ করে নারীদের জন্য প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী মায়েদের উপযোগী ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সাবান ও টিস্যু সহ।
ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক স্থাপনে নারীদের টয়লেট সুবিধা:
প্রধান প্রধান শহর ও মার্কেটের আশেপাশে থাকা উপাসনালয় গুলোতে নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট সুবিধার ব্যবস্থা, এবং সকল ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টে লাইসেন্স শর্ত হিসেবে আলাদা টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করা, যা নিয়মিত তদারকি করা হবে।
৩. শিশু ও বয়স্কদের দিবাযত্ন কেন্দ্র
কর্মজীবী নারীদের দ্বৈত দায়িত্ব ও মানসিক চাপ কমাতে, গ্রাম ও শহরে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ ও অগ্রগতি নিশ্চিত করবে, সাথে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে।
৪. পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা
নিরাপত্তা অ্যাপ ও হেল্পলাইন:
নারীদের সুরক্ষার জন্য বেশ কয়েকটি মোবাইল অ্যাপ চালু এবং টোলফ্রি হেল্পলাইন প্রতিষ্ঠা করা।
আইনি ও নীতি সংশোধন:
ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স সম্পর্কিত আইনসমূহের পুনঃমূল্যায়ন ও সংশোধন।
নারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ধর্ষণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রতিরোধে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ।
বিবাহ বিচ্ছেদের সময় কো-প্যারেন্টিং এবং মানসিক সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৫. সম্পত্তিতে নারীর অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল:
নারীদের প্রাপ্য সম্পত্তি অংশ নিশ্চিত করতে ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের গঠন।
ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ‘নারী সম্পত্তি সুরক্ষা কেন্দ্র’ চালু করার সুপারিশ।
সামাজিক সুরক্ষা ভাতা:
বিধবা, বৃদ্ধ ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা।
এবি পার্টি মনে করে, গণমানুষের বাস্তব চাহিদা ও দেশীয় সংস্কৃতির স্বতন্ত্রতা প্রতিফলিত করে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, যা দেশের সার্বিক অগ্রগতির অপরিহার্য উপাদান। এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্তরে নারীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হাজেরা মেহজাবিন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদিকা রাজিয়া সুলতানা , ছাত্রপক্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারজানা আক্তার মিতু, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদিকা শাহিনুর আক্তার শিলা, উদ্যেক্তা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ সম্পাদিকা সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা আক্তার মিতু, রুনা হোসেন, ফাতেমা সুলতানা জেরিন, সামসুন্নাহার রুপা, আফরোজ জাহান পিংকি,শাহীন পারভীন জান্নাত, তাছলিমা আক্তার রেবা, সেলিনা ও ছাত্রনেত্রী ফওজিয়া ফারিহা করবী সহপ্রমুখ।
সংবাদ প্রেরক
আজাদুল ইসলাম আজাদ
সহকারী প্রচার সম্পাদক
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
ট্যাগস :